একবার অতলে নামলে,
পুরোপুরি আর কখনও ফেরা যায়?
গভীর সমুদ্র, তীরের কাছে কেবল জোয়ার পাঠায়
নিজে কিন্তু কখনো আসে না
তুমিও আমায় তেমনি ছুয়েছিলে; দূর থেকে –
আকণ্ঠ!
তারপর – যা হবার তা-ই হলো
আমার ভেতর তখন শিলার ভাঙন
লবণাক্ত স্রোতে ডুবে যায় কোনো প্রাচীন নগর,
মানচিত্র থেকে মুছে যায় উপকূলীয় রেখা।
আমরা কি তবে প্রেমে পড়েছিলাম?
নাকি সমুদ্রের তলদেশে কোনো গোপন ভূকম্পন!
কথা রাখার কথা ছিলো না কোত্থাও
তবু তোমার সাড়া না এলে
খাঁচার নিচে জমাট বাঁধত গুমট অন্ধকার
তারাদের মত দেখা না পেয়ে অভিমানী মন
শতবার প্রতিজ্ঞা করত – আর ধরা না দেবার।
অতঃপর মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা – মানভঞ্জন
উপনিবেশিকের মতো তোমার আরেকটু আধিপত্যবাদ
চোরাবালিতে আমার আরও এক প্রস্থ অবগাহন!
দূরে গিয়ে আরও কাছে আসার ঐ দিনগুলিতে মনে হতো
প্রবল শক্তিতে মিলিত হচ্ছে বড় বড় ঢেউ;
অতলান্তিক সঙ্গম
হাজার মিটার গভীরতায় জমা জলরাশির চাপ তখন পাঁজরে
মানতেই হলো প্রেম মানুষকে অতিমানব বানায়; কিংবা ঊনমানুষ
এত চাপ, আর কে সামলায়!
এখন তুমি দূরে, অন্য উপকূলে
আমি আর বরফ ভাঙার শব্দ শুনি না
কেবল কিছু রাত এত ভারি নামে –
মনে হয়, পৃথিবীর যোগাযোগের সকল মাধ্যম
গিলে ফেলেছে দানবীয় অন্ধকার
কোনো কিছুই আর তোমায়, আমার কাছে পৌছবে না
আমি তোমার অনুপস্থিতিকে ছুঁয়ে দেখি তখন
কি ভেজা; ঠান্ডা আর অতল।
আমরা একে অপরকে পাই নি কখনও,
শুধু একজন অপরজনের আয়নায় রয়ে গেছি –
স্থায়ী জলচিহ্ন হয়ে;
কি আশ্চর্য!
তোমার মত কাওকে দেখলে এখনও হাটার গতি স্লথ হয়
নাম উচ্চারণ করতে গেলে গলায় আটকায় নোনা জল
আমি তাদের গিলে ফেলে, ডুবে যেতে শেখা মানুষের দলে মিশে যাই
যারা হাসে, কাজ করে, ঘুমোয়; করে পুনরাবৃত্তির পুনরাবৃত্তি।
আজ থেকে বহু বছর পর
কোনো শীতের সন্ধ্যায়, হয়তো আবার দেখা হবে আমাদের।
তুমি থমকে গিয়েও পাশ কাটিয়ে চলে যাবে,
আমি না তাকানোর ভান করব।
শুধু বুকের গভীরে একটা পুরোনো আটলান্টিক উঁকি দেবে
নিঃশব্দে, আরেকটি বার।
