অবশেষে লিখতেই হলো!
আমার অতি বিলাসী মনের প্রগাঢ় নিরেট অনুভূতিগুলো বাজারে তুলতে চাই নি কোনও দিন;
ওগুলোর দাম দেবে, এমন খরিদ্দার কি হাটে যায়?
তবু লিখতে হলো!
ভাবলাম লেখাটাই একপ্রকার বর্জন
নিজের ভেতর থেকে নিজেকেই ছেঁকে আলাদা করার, এক সিদ্ধ প্রক্রিয়া।
কীভাবে শুরু করি বলতো?
প্রথম দেখা, প্রথম কথা?
নাকি শেষ?
পেছনে ফিরলে দেখি – থেকেও ছিলে না তুমি।
তোমায় ঘিরে থাকা স্মৃতিগুলো আসলে সময়ের মৃত কোষ
যারা শুকিয়ে যাওয়া ঘাঁ-এর মতো, ক্ষত আঁকড়ে আছে
শুধু ভুলে যাওয়ার অপেক্ষায়।
তবু তুমি ছিলে, তুমি আছো – এক দৃশ্যমান অনুপস্থিতি হয়ে
নীরবতার প্রত্নতাত্ত্বিক স্তরে
যার নিচে চাপা পড়ে আছে, অব্যক্ত কথাদের কঙ্কাল।
প্রায়ই মনে হয়, তোমায় নিয়ে যতসব ক্ষুদ্র-মাঝারি, ছেঁড়া-ফাটা স্মৃতি আছে,
সব কটা দাঁড় করাই – লাইন ধরে, দল বেঁধে।
ওরা একসাথে কোরাস করুক – সদ্য কুঁড়ি পেরোনো একটা মেয়ে
কেমন করে তার দুঃখ বিলাসের সাতকাহন গড়ে!
পরক্ষণেই ভাবি, আমাদের সময় বলে আসলেই কি কিছু ছিলো?
নাকি কেবল অতিক্রমণ?
পর্দার আড়ালে এমন কিছু কি ছিলো কোনকাল, যা আমায় বিশ্বাস করিয়েছিল –
এই পথেরও শেষ আছে!
কোন সেই নির্দিষ্ট মুহূর্ত, যখন মনে হলো ‘তুমি’, ‘আমি’ মিলে ‘আমরা’ হই?
কখনই বা জানলাম – ‘তুমি’ আর ‘আমি’ একই বাক্যে থেকেও পাশাপাশি হবো না কখনও!
না কোনো নির্দিষ্ট লগ্ন নয়, বরং সময়ের ভেতর জমে ওঠা অদৃশ্য ফাটল
যেখানে প্রতিটি দিন একটু একটু করে সরে গেছে
তার নিজস্ব অক্ষ থেকে।
এই যে দূরত্ব – এটা কিন্তু ভৌগোলিক নয়,
নয় কোনো স্পষ্ট বিচ্ছেদ;
এ এক মহাজাগতিক শূন্যতা!
যেখানে স্মৃতি আর বিস্মৃতি, একই হয়ে যায়।
হয়তো সবার জীবনেই একসময় আসে এই অন্তর্লীন ক্ষয়
যেখানে সম্পর্ক কোনোদিন ভাঙে না, বরং ধীরে ধীরে বিলীন হয় নিজেরই ভেতর।
তোমার ভেতরেও কি নেই, এমন একটা সমুদ্র –
যার ওপরের স্তর শান্ত; কিন্তু নিচেই ভাঙে গড়ে অস্থির স্রোত নিরন্তর?
প্রশ্নেরা থামে না, উত্তর খুঁজতে ভুলে যায় একসময়
তুমি তো আমার বহু জন্মের অভ্যাস নও, তবু অস্তিত্বের ভার
তবে কি আমার মুক্তি নেই; নাকি তোমায় মুছে ফেলাই মুক্তি?
সে-ও তো এক প্রকার আত্মবিনাশ, বলো!
আমার ভেতর এই যে তোমার কাব্যিক বাস, তা কি আমারই প্রতিচ্ছবি নয়?
হয়তো কোনো উত্তর নেই
উত্তর থাকার প্রয়োজনই বা কি!
এই যে ‘উত্তর না চাওয়া’ – এটাও কি কোনো চাওয়া নয়?
সব অপেক্ষা মুক্ত হবার – চূড়ান্ত অপেক্ষা!
